ঢাকা , সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ কর্মকর্তা নিহত

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪
  • 18

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর চার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শ্যারোলেট শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় দুই বন্দুকধারী জড়িত ছিল। অন্তত একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে একটি ব্যারিকেডেড বাড়ির সামনের উঠানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গোলাগুলি ও বন্দুক হামলার এই ঘটনা প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।

শ্যারোলেট–মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের প্রধান জনি জেনিংস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক অপরাধীকে ধরতে একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। কিন্ত বাড়িটিতে ঢোকার পর বন্দুকধারীরা তাদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে। তারা গুলি চালালে বাড়ির উঠোনে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি নিহত হন। কিছুক্ষণ ধরে গুলি ও পাল্টা গুলি চলার পর স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকসের (সোয়াট) একটি দল সেখানে যায়। বাড়ির ভেতরে থাকা তিন ব্যক্তিতে নিজেদের হেফাজতে নেন।

হামলার শিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিসের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্সের সদস্য। বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠনা করা হয়।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আজ আমরা কিছু বীরকে হারালাম যারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রাখতে কাজ করছিল’

সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে বাড়ির ভেতরে থাকা আরও দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুজন ব্যক্তির মধ্যে- একজন নারী, অপরজন ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে।

পুলিশ এখনও এই ঘটনায় হতাহত কোনো কর্মকর্তার নাম বা জড়িত সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করেনি।

অভিযান ও অবরোধের সময় আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুল লকডাউনে রাখা হয়েছিল। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল এবং অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে কাছাকাছি রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী টাইলার উইলসন সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এসময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পুলিশকে চিৎকার করতে শোনেন।

তিনি বলেন, ‘এর পরে, যা হয়েছে তা ছিল শুধুই বিশৃঙ্খলা। দুইপাশ থেকেই গোলাগুলি হচ্ছিল। আমাদের এখানে সোয়াত ছিল, এবং ইউএস মার্শালরা আমাদের বেডরুমে স্নাইপার বসিয়েছিল। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সরাসরি গোলাগুলি হয়েছে।’

শ্যারোলেট শহরের মেয়র ভি লাইলস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকে শ্যারোলেট-মেকলেনবার্গ পুলিশ অফিসার এবং ইউএস মার্শালদের ওপর গুলির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন।’

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪ কর্মকর্তা নিহত

আপডেট সময় ১০:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে বন্দুকধারীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর চার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শ্যারোলেট শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় দুই বন্দুকধারী জড়িত ছিল। অন্তত একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে একটি ব্যারিকেডেড বাড়ির সামনের উঠানে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গোলাগুলি ও বন্দুক হামলার এই ঘটনা প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।

শ্যারোলেট–মেকলেনবার্গ পুলিশ বিভাগের প্রধান জনি জেনিংস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক অপরাধীকে ধরতে একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। কিন্ত বাড়িটিতে ঢোকার পর বন্দুকধারীরা তাদের দিকে গুলি চালাতে শুরু করে। তারা গুলি চালালে বাড়ির উঠোনে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি নিহত হন। কিছুক্ষণ ধরে গুলি ও পাল্টা গুলি চলার পর স্পেশাল উইপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকসের (সোয়াট) একটি দল সেখানে যায়। বাড়ির ভেতরে থাকা তিন ব্যক্তিতে নিজেদের হেফাজতে নেন।

হামলার শিকার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিসের নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্সের সদস্য। বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠনা করা হয়।

পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আজ আমরা কিছু বীরকে হারালাম যারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রাখতে কাজ করছিল’

সন্দেহভাজন ব্যক্তির সাথে বাড়ির ভেতরে থাকা আরও দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দুজন ব্যক্তির মধ্যে- একজন নারী, অপরজন ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে।

পুলিশ এখনও এই ঘটনায় হতাহত কোনো কর্মকর্তার নাম বা জড়িত সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করেনি।

অভিযান ও অবরোধের সময় আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুল লকডাউনে রাখা হয়েছিল। আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছিল এবং অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে কাছাকাছি রাস্তাগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী টাইলার উইলসন সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে কাজ করছিলেন। এসময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পুলিশকে চিৎকার করতে শোনেন।

তিনি বলেন, ‘এর পরে, যা হয়েছে তা ছিল শুধুই বিশৃঙ্খলা। দুইপাশ থেকেই গোলাগুলি হচ্ছিল। আমাদের এখানে সোয়াত ছিল, এবং ইউএস মার্শালরা আমাদের বেডরুমে স্নাইপার বসিয়েছিল। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সরাসরি গোলাগুলি হয়েছে।’

শ্যারোলেট শহরের মেয়র ভি লাইলস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আজকে শ্যারোলেট-মেকলেনবার্গ পুলিশ অফিসার এবং ইউএস মার্শালদের ওপর গুলির ঘটনায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন।’