ঢাকা , শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • 22

বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে। চীন বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে সোনার দাম এভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

সোনার দামে বিশ্ববাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে সোনার অলংকারের সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১৯ মে) থেকে ভ্যাট ও মজুরিসহ প্রতি ভরি সোনার অলংকার কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ ৩১ হাজার ৪৯১ টাকা গুনতে হবে। দেশের বাজারে সোনার অলংকারের এত দাম আগে কখনো হয়নি।

সোনার অলংকারের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলেও দেশের বাজারে সোনার দাম বর্তমানের থেকেও বেশি ছিল। দেশের ইতিহাসে এক ভরি সোনা সর্বোচ্চ এক লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়। সে সময় এক ভরি সোনার অলংকারের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারিত হয় এক লাখ ২৯ হাজার ১১৯ টাকা।

সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি না হলেও সোনার অলংকারের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার কারণ মজুরি। আগে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হতো ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। কিন্তু এই নিয়ম পরিবর্তন করে গত ১৪ মে ভরিপ্রতি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ। এতেই নতুন দামে সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ভরিপ্রতি ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে ৭ হাজার ১০৮ টাকা।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার থেকে সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা এক লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ১৩ হাজার ৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ৯৬ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা ৮০ হাজার ১৩২ টাকায় বিক্রি হবে।

অবশ্য সোনার গয়না কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হবে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গয়না বিক্রি হয়। একই সঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হবে ন্যূনতম ৬ শতাংশ। ফলে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়না কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ ৩১ হাজার ৪৯১ টাকা গুনতে হবে।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৭৭ ডলার বা ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে সবশেষ শুক্রবার বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫ ডলার বা এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। এতে সপ্তাহ শেষে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১৪ দশমিক ২৫ ডলার। সোনার এত দাম আগে কখনো দেখেনি বিশ্ববাসী। এর আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৯১ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল গত ১৯ এপ্রিল। এরপর কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়ে এখন আবার দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মার্চ মাসের শুরুর দিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন চলতি বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এক মাসের মধ্যেই তাদের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়। আর মে মাসে এসে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলো।

বিশ্ববাজারে সোনার এমন দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, চীনে সোনায় বিনিয়োগ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ সোনা কিনছে। আরব আমিরাত, দুবাইসহ অন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজারে বিনিয়োগকারীরা সোনায় বিনিয়োগ করছেন। সোনার দাম বাড়ার এটাই কারণ। বিশেষ করে চীনের বিনিয়োগ বেশি আসছে।

ট্যাগস

ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা

আপডেট সময় ১১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে। চীন বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে সোনার দাম এভাবে বেড়েছে বলে মনে করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

সোনার দামে বিশ্ববাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে সোনার অলংকারের সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (১৯ মে) থেকে ভ্যাট ও মজুরিসহ প্রতি ভরি সোনার অলংকার কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ ৩১ হাজার ৪৯১ টাকা গুনতে হবে। দেশের বাজারে সোনার অলংকারের এত দাম আগে কখনো হয়নি।

সোনার অলংকারের দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলেও দেশের বাজারে সোনার দাম বর্তমানের থেকেও বেশি ছিল। দেশের ইতিহাসে এক ভরি সোনা সর্বোচ্চ এক লাখ ১৯ হাজার ৬৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়। সে সময় এক ভরি সোনার অলংকারের সর্বনিম্ন দাম নির্ধারিত হয় এক লাখ ২৯ হাজার ১১৯ টাকা।

সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি না হলেও সোনার অলংকারের দামে সর্বোচ্চ রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার কারণ মজুরি। আগে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হতো ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। কিন্তু এই নিয়ম পরিবর্তন করে গত ১৪ মে ভরিপ্রতি ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ শতাংশ। এতেই নতুন দামে সোনার অলংকারের ক্ষেত্রে ভরিপ্রতি ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে ৭ হাজার ১০৮ টাকা।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার থেকে সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা এক লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ১৩ হাজার ৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ৯৬ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা ৮০ হাজার ১৩২ টাকায় বিক্রি হবে।

অবশ্য সোনার গয়না কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হবে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গয়না বিক্রি হয়। একই সঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হবে ন্যূনতম ৬ শতাংশ। ফলে এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়না কিনতে ক্রেতাদের এক লাখ ৩১ হাজার ৪৯১ টাকা গুনতে হবে।

এদিকে, গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৭৭ ডলার বা ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে সবশেষ শুক্রবার বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫ ডলার বা এক দশমিক ৫৩ শতাংশ। এতে সপ্তাহ শেষে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১৪ দশমিক ২৫ ডলার। সোনার এত দাম আগে কখনো দেখেনি বিশ্ববাসী। এর আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৯১ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল গত ১৯ এপ্রিল। এরপর কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়ে এখন আবার দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মার্চ মাসের শুরুর দিকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন চলতি বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এক মাসের মধ্যেই তাদের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়। আর মে মাসে এসে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলো।

বিশ্ববাজারে সোনার এমন দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, চীনে সোনায় বিনিয়োগ বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ সোনা কিনছে। আরব আমিরাত, দুবাইসহ অন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজারে বিনিয়োগকারীরা সোনায় বিনিয়োগ করছেন। সোনার দাম বাড়ার এটাই কারণ। বিশেষ করে চীনের বিনিয়োগ বেশি আসছে।