ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক সময়ের ব্যস্ত ৫ শহর আজ পরিত্যক্ত, ভুতুড়ে

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪
  • 42

একবার কল্পনা করুন তো এই ব্যস্ততম ঢাকা শহর, যেখানে কোটি কোটি মানুষ বাস করে। সারাক্ষণ গাড়ির হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল। হঠাৎ যদি থেমে যায়? ৫০ কিংবা ১০০ বছর পর ঢাকা যদি পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়! চারদিকে জং ধরা গাড়ি পরে আছে, শ্যাওলা, বুনো গাছে ঘিরে আছে আলিশান বাড়িগুলো। কেমন লাগবে আপনার?

ঢাকা শহরকে এভাবে কল্পনা করতে না পারলেও বিশ্বের এমন কিছু শহর আছে যেগুলো একসময় ব্যস্ত এবং জাঁকজমক শহর ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আজ তা ভুতুড়ে, পরিত্যক্ত। পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। চলুন এমন কয়েকটি শহরের কথা জেনে নেওয়া যাক-

সিউদাদ পের্ডিদা, কলোম্বিয়া
সিয়েরা নেভাদা পর্বতে তায়রোনা সম্প্রদায়ের মানুষ এই শহর তৈরি করেছিল। ১৯৭২ সালে এই শহরের ফের খোঁজ মেলে। স্থানীয় গুপ্তধন সন্ধানী একটি দল ‘লস সেপুলভেদাস’ আবিষ্কার করেছিলেন। ‘লস সেপুলভেদাস’ ছিল কলম্বিয়ায় বসবাসকারী গুপ্তধন সন্ধানী একটি ছোট পরিবার। পরিবারটি প্রায়শই বনে শিকার করতে যেত এবং একদিন তারা একটি বন্য টার্কি মুরগিকে গুলি করে। টার্কি উদ্ধার করার সময়, তারা লক্ষ্য করে যে মুরগি বা সেই পাখিটি পাহাড়ের উপরে উঠে যাওয়া পাথরের সিঁড়িতে পড়েছে। তারা পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে একটি পরিত্যক্ত শহর আবিষ্কার করে, যার নাম তারা দেয় ‘গ্রিন হেল’ বা ‘ওয়াইড সেট’। এই শহরটি ৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মনে করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। যদি তাই হয়, তাহলে এটি মাচু পিচুর আগে তৈরি হয়েছিল।

দ্য লস্ট সিটি অব জেড, ব্রাজিল
এই শহরের কিন্তু বাস্তবে দেখা মেলেনি। গল্পকথায় মেলে দ্য লস্ট সিটি অব জেড বা এল-ডোরাডোর হদিশ। বিশ্বাস করা হয়, আমাজনের জঙ্গলে রয়েছে এই শহর। কিন্তু বহু ভূ পর্যটকে বহু চেষ্টা করেও এই শহর খুঁজে পাননি। একজন ব্রিটিশ জরিপকারী কর্নেল পার্সি হ্যারিসন ফাউসেট এই শহরের নামকরণ করেন। ব্রাজিলের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি ৫১২ নামে একটি নথি খুঁজে পান কর্নেল পার্সি হ্যারিসন। যা পর্তুগিজ ব্যান্ডেইরান্টেস জোয়াও দ্য সিলভা গুইমারেস লিখেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় । নথি অনুসারে, ১৭৫৩ সালে, একদল ব্যান্ডেইরান্টেস একটি প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছিল যাতে খিলান, একটি মূর্তি এবং হায়ারোগ্লিফ সহ একটি মন্দির রয়েছে। তবে নথিতে শহরের ধ্বংসাবশেষের অবস্থান জানাননি লেখক। যে কারণে এখনো এর অস্তিত্ব খুঁজে পাননি কেউ।

ট্রয়, তুরষ্ক
ট্রয় নগরীর নাম শোনেননি এমন মানুষ কমই আছেন। যে শহর ধ্বংস হয়েছিল এক নারীর জন্য। গ্রিক পুরাণে এই শহরের উল্লেখ মেলে। ১৯ শতকে ফের খোঁজ মেলে এই শহরের। এখানে প্রথম ৩৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি বসতি স্থাপন করা হয়েছিল এবং ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে একটি ছোট সুরক্ষিত শহরে পরিণত হয়। চার হাজার বছর টিকে ছিল এই শহর। তবে এর মধ্যে ট্রয় বারবার ধ্বংস এবং পুনর্নির্মিত হয়েছিল। ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকে, ট্রয়কে উইলুসা বলা হতো। বর্তমানে এই শহর পর্যটকদের জন্য এক অন্যতম আগ্রহের জায়গা। ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

পম্পেই, ইতালি
ইতালির এই শহর নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এক নিমিষেই একটি ব্যস্ততম শহর জনশূন্য হয়ে যায়। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে চাপা পড়ে যায় আস্ত এই শহর। যার বিভীষিকাময় স্মৃতি এখনো আগলে দাঁড়িয়ে আছে শহরটি। ১৯ শতকের গোড়ার দিক থেকে এখানে দফায় লাখ পর্যটক পম্পেইয়ের ধ্বংসস্তূপ দেখতে আসেন।

পেত্রা, জর্ডান
পেত্রা ছিল একটি প্রাচীন আরব শহর। বর্তমান জর্ডানের দক্ষিণ ও পশ্চিমের গ্রাম ওয়াদি মুসার ঠিক পূর্বে হুর পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী। পাথরে খোদাই ও নানা স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত হারিয়ে যাওয়া এই শহর। মুসলমানেরা এটিকে তাদের দখলে নেন সপ্তম শতকে এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ শতকে আবার ক্রুসেডাররা এটিকে দখল করলে ক্রমে ক্রমে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ৩৬৩ সালে এক ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় এর দালানগুলো। নষ্ট হয়ে যায় পানি সঞ্চালন ব্যবস্থা। মধ্যযুগে পেত্রা একেবারে পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ট্যাগস

এক সময়ের ব্যস্ত ৫ শহর আজ পরিত্যক্ত, ভুতুড়ে

আপডেট সময় ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪

একবার কল্পনা করুন তো এই ব্যস্ততম ঢাকা শহর, যেখানে কোটি কোটি মানুষ বাস করে। সারাক্ষণ গাড়ির হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল। হঠাৎ যদি থেমে যায়? ৫০ কিংবা ১০০ বছর পর ঢাকা যদি পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়! চারদিকে জং ধরা গাড়ি পরে আছে, শ্যাওলা, বুনো গাছে ঘিরে আছে আলিশান বাড়িগুলো। কেমন লাগবে আপনার?

ঢাকা শহরকে এভাবে কল্পনা করতে না পারলেও বিশ্বের এমন কিছু শহর আছে যেগুলো একসময় ব্যস্ত এবং জাঁকজমক শহর ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আজ তা ভুতুড়ে, পরিত্যক্ত। পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। চলুন এমন কয়েকটি শহরের কথা জেনে নেওয়া যাক-

সিউদাদ পের্ডিদা, কলোম্বিয়া
সিয়েরা নেভাদা পর্বতে তায়রোনা সম্প্রদায়ের মানুষ এই শহর তৈরি করেছিল। ১৯৭২ সালে এই শহরের ফের খোঁজ মেলে। স্থানীয় গুপ্তধন সন্ধানী একটি দল ‘লস সেপুলভেদাস’ আবিষ্কার করেছিলেন। ‘লস সেপুলভেদাস’ ছিল কলম্বিয়ায় বসবাসকারী গুপ্তধন সন্ধানী একটি ছোট পরিবার। পরিবারটি প্রায়শই বনে শিকার করতে যেত এবং একদিন তারা একটি বন্য টার্কি মুরগিকে গুলি করে। টার্কি উদ্ধার করার সময়, তারা লক্ষ্য করে যে মুরগি বা সেই পাখিটি পাহাড়ের উপরে উঠে যাওয়া পাথরের সিঁড়িতে পড়েছে। তারা পাথরের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে একটি পরিত্যক্ত শহর আবিষ্কার করে, যার নাম তারা দেয় ‘গ্রিন হেল’ বা ‘ওয়াইড সেট’। এই শহরটি ৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে মনে করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। যদি তাই হয়, তাহলে এটি মাচু পিচুর আগে তৈরি হয়েছিল।

দ্য লস্ট সিটি অব জেড, ব্রাজিল
এই শহরের কিন্তু বাস্তবে দেখা মেলেনি। গল্পকথায় মেলে দ্য লস্ট সিটি অব জেড বা এল-ডোরাডোর হদিশ। বিশ্বাস করা হয়, আমাজনের জঙ্গলে রয়েছে এই শহর। কিন্তু বহু ভূ পর্যটকে বহু চেষ্টা করেও এই শহর খুঁজে পাননি। একজন ব্রিটিশ জরিপকারী কর্নেল পার্সি হ্যারিসন ফাউসেট এই শহরের নামকরণ করেন। ব্রাজিলের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে রক্ষিত পাণ্ডুলিপি ৫১২ নামে একটি নথি খুঁজে পান কর্নেল পার্সি হ্যারিসন। যা পর্তুগিজ ব্যান্ডেইরান্টেস জোয়াও দ্য সিলভা গুইমারেস লিখেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় । নথি অনুসারে, ১৭৫৩ সালে, একদল ব্যান্ডেইরান্টেস একটি প্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছিল যাতে খিলান, একটি মূর্তি এবং হায়ারোগ্লিফ সহ একটি মন্দির রয়েছে। তবে নথিতে শহরের ধ্বংসাবশেষের অবস্থান জানাননি লেখক। যে কারণে এখনো এর অস্তিত্ব খুঁজে পাননি কেউ।

ট্রয়, তুরষ্ক
ট্রয় নগরীর নাম শোনেননি এমন মানুষ কমই আছেন। যে শহর ধ্বংস হয়েছিল এক নারীর জন্য। গ্রিক পুরাণে এই শহরের উল্লেখ মেলে। ১৯ শতকে ফের খোঁজ মেলে এই শহরের। এখানে প্রথম ৩৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের কাছাকাছি বসতি স্থাপন করা হয়েছিল এবং ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে একটি ছোট সুরক্ষিত শহরে পরিণত হয়। চার হাজার বছর টিকে ছিল এই শহর। তবে এর মধ্যে ট্রয় বারবার ধ্বংস এবং পুনর্নির্মিত হয়েছিল। ব্রোঞ্জ যুগের শেষের দিকে, ট্রয়কে উইলুসা বলা হতো। বর্তমানে এই শহর পর্যটকদের জন্য এক অন্যতম আগ্রহের জায়গা। ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল।

পম্পেই, ইতালি
ইতালির এই শহর নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এক নিমিষেই একটি ব্যস্ততম শহর জনশূন্য হয়ে যায়। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে চাপা পড়ে যায় আস্ত এই শহর। যার বিভীষিকাময় স্মৃতি এখনো আগলে দাঁড়িয়ে আছে শহরটি। ১৯ শতকের গোড়ার দিক থেকে এখানে দফায় লাখ পর্যটক পম্পেইয়ের ধ্বংসস্তূপ দেখতে আসেন।

পেত্রা, জর্ডান
পেত্রা ছিল একটি প্রাচীন আরব শহর। বর্তমান জর্ডানের দক্ষিণ ও পশ্চিমের গ্রাম ওয়াদি মুসার ঠিক পূর্বে হুর পাহাড়ের পাদদেশে এর অবস্থান। ৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এটি ছিল নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী। পাথরে খোদাই ও নানা স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত হারিয়ে যাওয়া এই শহর। মুসলমানেরা এটিকে তাদের দখলে নেন সপ্তম শতকে এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ শতকে আবার ক্রুসেডাররা এটিকে দখল করলে ক্রমে ক্রমে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ৩৬৩ সালে এক ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় এর দালানগুলো। নষ্ট হয়ে যায় পানি সঞ্চালন ব্যবস্থা। মধ্যযুগে পেত্রা একেবারে পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া