ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
দেশে দেশে বাবা দিবস পালনের ভিন্নতা

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

  • ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪
  • 25

‘বাবা মানে হাজার বিকেল/আমার ছেলে বেলা/বাবা মানে রোজ সকালে/পুতুল পুতুল খেলা/বাবা মানে কাটছে ভালো/যাচ্ছে ভালো দিন/বাবা মানে জমিয়ে রাখা/আমার অনেক ঋণ’ ছোট্ট মেয়ে জাইমা নূরের এই গানটি শুনে চোখ ছলছল হয়ে ওঠেনি এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকের বাবার স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে গানটি।

এছাড়া বাবাকে নিয়ে আছে বিশ্বের প্রতিটি ভাষায় গান কবিতা। প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা যেমন বটবৃক্ষের ছায়া, তেমনি বাবার কাছেও সন্তান অমূল্য সম্পদ। সন্তানের আবদার, ইচ্ছা শতকষ্টের মাঝেও পূরণ করেন তিনি। বাবা সন্তানের আগলে রাখেন ভালোবাসা, স্নেহ আর মমতায়। যদিও সবসময় তারা তা প্রকাশ করেন না। তেমনি সন্তানদেরও মুখ ফুটে বলা হয়ে ওঠে না বাবা তোমাকে ভালোবাসি।

সারাবছর বলতে না পারলেও আজ বলে ফেলুন। কারণ আজ বাবা দিবস। জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বের প্রায় ১১১টি দেশ এই দিনে পালন করে বাবা দিবস। এ দিনটিতে বাবাদের নানাভাবে শুভেচ্ছা জানান বা স্মরণ করেন সন্তানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ে বাবাকে নিয়ে লেখা কারো মজার স্মৃতি, কেউবা বলছেন মনের না বলা কথা। যা হয়তো কখনো সামনাসামনি বলা হয়নি।

প্রত্যেক সন্তানের কাছেই বাবা তাদের স্পেশাল হিরো। আর তাই বাবাকে সম্মান জানাতে, ভালোবাসা জানাতে পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি। মা দিবস পালন হচ্ছে কয়েকশো বছর ধরে। সেই তুলনায় বাবা দিবস অনেক নতুন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয়েছিল বাবা দিবস পালন। ওয়াশিংটনের সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের একজন নারী এই দিন উদযাপন শুরু করেন। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা গেলে তার বাবা পরিবারটিকে বড় করে তোলেন।

১৯০৯ সালে সোনোরা গির্জার একটি বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন তার মনে হলো, বাবার জন্যও এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মযাজক তার এই আইডিয়াটি গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিক ছিল না।

১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনে পরিণত করেন। তবে বিশ্বের একেক দেশে বাবা দিবসের পালন করা হয় একেকভাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশ কীভাবে পালন করে বিশেষ এই দিনটি-

থাইল্যান্ড
বিশ্বের অন্যান্য দেশে জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালন হলেও থাইল্যান্ডে বাবা দিবস অন্য দিন। সেখানে বাবা দিবস পালন করা হয় রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের জন্মদিনে, ৫ ডিসেম্বর। তাকে দেশটির জনক বলে মনে করা হয়।এদিন তারা হলুদ রঙের কাপড় পরেন।

মেক্সিকো
মেক্সিকোয় বাবা দিবস বা ডিয়া ডেল পেড্রো উদযাপিত হয় জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। এদিন মেক্সিকো সিটিতে তের মাইল লম্বা একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়, যাকে বলা হয় ক্যানেরা ডিয়া ডেল পেড্রো। বাবাদের সঙ্গে সঙ্গে ওই দৌড়ে অংশ নেন সন্তানরাও।

জার্মানি
জার্মানিতে এই দিনে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে বাবারা বরং একেকটি গ্রুপ হয়ে হাইকিং করতে যান। কখনো কখনো মদ বা খাবার ভর্তি টেনে তোলার মতো খেলা করেন।

নেপাল
নেপালে সন্তানরা এই দিনে তাদের পিতামাতাকে মিষ্টি কিনে দেন। কখনো কখনো সন্তানরা তাদের বাবার কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন। যাদের বাবা মারা গেছেন, তারা সেই সমাধিস্থানে গিয়ে বাবাকে স্মরণ করেন।

ফ্রান্স
ফ্রান্সে বাবা দিবসটি ঐতিহ্যগতভাবে একটি ক্যাথলিক উৎসব। তবে উনিশ শতকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এটির পুনঃপ্রচলন ঘটানো হয়। এখন এই দিনে সবরকম উপহার দেওয়া হয়ে থাকে, যার মধ্যে থাকে গোলাপ ফুলও। ফ্রান্সের প্রথা হলো এটা যে, বাবা জীবিত থাকলে তাকে লাল গোলাপ দেওয়া হবে। তবে বাবা যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার সমাধিতে সাদা গোলাপ রেখে আসে সন্তানরা।

এছাড়াও পর্তুগাল, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইতালির মতো দেশে বাবা দিবস পালন করা হয় ১৯ মার্চ। তাইওয়ানে আবার বাবা দিবস পালিত হয় ৮ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিফি এবং পাপুয়া নিউ গিনি এই বিশেষ দিনটি পালন করে সেপ্টেম্বর মাসে।

সূত্র: ন্যাশনাল টুডে

ট্যাগস

দেশে দেশে বাবা দিবস পালনের ভিন্নতা

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

আপডেট সময় ১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

‘বাবা মানে হাজার বিকেল/আমার ছেলে বেলা/বাবা মানে রোজ সকালে/পুতুল পুতুল খেলা/বাবা মানে কাটছে ভালো/যাচ্ছে ভালো দিন/বাবা মানে জমিয়ে রাখা/আমার অনেক ঋণ’ ছোট্ট মেয়ে জাইমা নূরের এই গানটি শুনে চোখ ছলছল হয়ে ওঠেনি এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রত্যেকের বাবার স্মৃতি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে গানটি।

এছাড়া বাবাকে নিয়ে আছে বিশ্বের প্রতিটি ভাষায় গান কবিতা। প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা যেমন বটবৃক্ষের ছায়া, তেমনি বাবার কাছেও সন্তান অমূল্য সম্পদ। সন্তানের আবদার, ইচ্ছা শতকষ্টের মাঝেও পূরণ করেন তিনি। বাবা সন্তানের আগলে রাখেন ভালোবাসা, স্নেহ আর মমতায়। যদিও সবসময় তারা তা প্রকাশ করেন না। তেমনি সন্তানদেরও মুখ ফুটে বলা হয়ে ওঠে না বাবা তোমাকে ভালোবাসি।

সারাবছর বলতে না পারলেও আজ বলে ফেলুন। কারণ আজ বাবা দিবস। জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিনটি পালন করা হয়। বিশ্বের প্রায় ১১১টি দেশ এই দিনে পালন করে বাবা দিবস। এ দিনটিতে বাবাদের নানাভাবে শুভেচ্ছা জানান বা স্মরণ করেন সন্তানরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখে পড়ে বাবাকে নিয়ে লেখা কারো মজার স্মৃতি, কেউবা বলছেন মনের না বলা কথা। যা হয়তো কখনো সামনাসামনি বলা হয়নি।

প্রত্যেক সন্তানের কাছেই বাবা তাদের স্পেশাল হিরো। আর তাই বাবাকে সম্মান জানাতে, ভালোবাসা জানাতে পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি। মা দিবস পালন হচ্ছে কয়েকশো বছর ধরে। সেই তুলনায় বাবা দিবস অনেক নতুন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম চালু হয়েছিল বাবা দিবস পালন। ওয়াশিংটনের সোনোরা লুইস স্মার্ট নামের একজন নারী এই দিন উদযাপন শুরু করেন। ষষ্ঠ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা গেলে তার বাবা পরিবারটিকে বড় করে তোলেন।

১৯০৯ সালে সোনোরা গির্জার একটি বক্তব্যে মা দিবসের কথা জানতে পারেন। তখন তার মনে হলো, বাবার জন্যও এরকম একটি দিবস থাকা উচিত।স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মযাজক তার এই আইডিয়াটি গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবারের মতো বাবা দিবসটি পালন করা হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিক ছিল না।

১৯৬৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রতি বছর জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। ছয় বছর পর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন এটিকে আইনে পরিণত করেন। তবে বিশ্বের একেক দেশে বাবা দিবসের পালন করা হয় একেকভাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন দেশ কীভাবে পালন করে বিশেষ এই দিনটি-

থাইল্যান্ড
বিশ্বের অন্যান্য দেশে জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস পালন হলেও থাইল্যান্ডে বাবা দিবস অন্য দিন। সেখানে বাবা দিবস পালন করা হয় রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের জন্মদিনে, ৫ ডিসেম্বর। তাকে দেশটির জনক বলে মনে করা হয়।এদিন তারা হলুদ রঙের কাপড় পরেন।

মেক্সিকো
মেক্সিকোয় বাবা দিবস বা ডিয়া ডেল পেড্রো উদযাপিত হয় জুন মাসের তৃতীয় রবিবার। এদিন মেক্সিকো সিটিতে তের মাইল লম্বা একটি দৌড় প্রতিযোগিতা হয়, যাকে বলা হয় ক্যানেরা ডিয়া ডেল পেড্রো। বাবাদের সঙ্গে সঙ্গে ওই দৌড়ে অংশ নেন সন্তানরাও।

জার্মানি
জার্মানিতে এই দিনে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে বাবারা বরং একেকটি গ্রুপ হয়ে হাইকিং করতে যান। কখনো কখনো মদ বা খাবার ভর্তি টেনে তোলার মতো খেলা করেন।

নেপাল
নেপালে সন্তানরা এই দিনে তাদের পিতামাতাকে মিষ্টি কিনে দেন। কখনো কখনো সন্তানরা তাদের বাবার কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন। যাদের বাবা মারা গেছেন, তারা সেই সমাধিস্থানে গিয়ে বাবাকে স্মরণ করেন।

ফ্রান্স
ফ্রান্সে বাবা দিবসটি ঐতিহ্যগতভাবে একটি ক্যাথলিক উৎসব। তবে উনিশ শতকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এটির পুনঃপ্রচলন ঘটানো হয়। এখন এই দিনে সবরকম উপহার দেওয়া হয়ে থাকে, যার মধ্যে থাকে গোলাপ ফুলও। ফ্রান্সের প্রথা হলো এটা যে, বাবা জীবিত থাকলে তাকে লাল গোলাপ দেওয়া হবে। তবে বাবা যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার সমাধিতে সাদা গোলাপ রেখে আসে সন্তানরা।

এছাড়াও পর্তুগাল, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইতালির মতো দেশে বাবা দিবস পালন করা হয় ১৯ মার্চ। তাইওয়ানে আবার বাবা দিবস পালিত হয় ৮ আগস্ট। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিফি এবং পাপুয়া নিউ গিনি এই বিশেষ দিনটি পালন করে সেপ্টেম্বর মাসে।

সূত্র: ন্যাশনাল টুডে